পৃথিবীর মোহ ও আধ্যাত্মিক মুক্তিরঃ একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

পৃথিবীর মোহ ও আধ্যাত্মিক মুক্তিরঃ একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

সৃষ্টিতত্ত্বের এক রহস্যময় অধ্যায় হলো এই পৃথিবী, যাকে ইসলামি দর্শনে একটি ‘পরীক্ষাগার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মানুষ এই নশ্বর পৃথিবীতে আসে এক মহান উদ্দেশ্য নিয়ে, কিন্তু জগতের চাকচিক্য আর মায়া তাকে সেই মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। হযরত আলী (আঃ)-এর দর্শন অনুযায়ী, পার্থিব বস্তু আসলে মানুষের জন্য এক মিছে মায়া মরীচিকা। এই প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হলো— পার্থিব বস্তুর অন্তঃসারশূন্যতা উপলব্ধি করা এবং ইন্দ্রিয়জাত মোহের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মিক শুদ্ধি অর্জন করাই হলো মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র পথ

অস্তিত্বের দ্বান্দ্বিকতা

মানুষের জীবন এক নিরন্তর জিহাদ বা যুদ্ধের নাম—যা মূলত তার রিপু এবং বিবেকের মধ্যে সংঘটিত হয়, আর এই জিহাদকে জিহাদ-ই আকবার বলা হয়েছে। এই পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধ মানুষকে এমনভাবে আবিষ্ট করে যে, সে ভুলে যায় তার আদি এবং অন্তের কথা তার সঠিক গন্তব্যের কথা। হযরত আলী (আঃ)-এর দর্শনে দুনিয়ার প্রতি এই আসক্তিই হলো আধ্যাত্মিক পতনের মূল কারণ। যখন একজন মানুষ তার ধন-সম্পদ বা পদমর্যাদাকেই জীবনের পরম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য মনে করে, তখন তার হৃদয়ে স্রষ্টার চেয়ে সৃষ্টি বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই ‘মোহ’ এই ‘আসক্তি’ আসলে এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক পর্দাস্বরূপ, যা সত্য দর্শনে বাধা দেয়। আধ্যাত্মিক সফলতার প্রথম ধাপই হলো এই উপলব্ধি যে, যা কিছু দৃশ্যমান এবং বিনাশী, তা কখনোই চিরন্তন আনন্দের উৎস হতে পারে না।

তুচ্ছতার নান্দনিক উপস্থাপন

হযরত আলী (আঃ) অত্যন্ত তীক্ষ্ণ এবং বিদ্রূপাত্মক রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের অহংকারকে, দর্পকে চূর্ণ করেছেন। তিনি পৃথিবীকে তুলনা করেছেন ‘দুম্বার তথা পশুর নাকের সর্দি’র সাথে—যা ঘৃণিত এবং পরিত্যাজ্য। যখন তিনি বলেন, সবচেয়ে সুস্বাদু খাবার (মধু) হলো একটি পতঙ্গের মুখনিসৃত লালা বা থুথু এবং সবচেয়ে দামী পোশাক (রেশম) হলো একটি পোকার বিষ্ঠা বা বর্জ্য অন্যভাবে বললে যাকে পায়খানা বলা হয়, তখন তিনি মূলত বস্তুর বাহ্যিক আভিজাত্যকে বিশ্লেষন করে তার প্রকৃত রূপটি আমাদের সামনে তুলে ধরেন। এই রূপকগুলো কেবল উপমা নয়, বরং এগুলো মানুষের বস্তুবাদী ভোগবাদী দৃষ্টিভঙ্গিকে আমূল বদলে দেওয়ার এক একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অস্ত্র। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা যা নিয়ে দম্ভ করি, তার উৎস আসলে অত্যন্ত নগণ্য।

আধুনিকতার প্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিকতা

বর্তমান এই ভোগবাদী (Consumerist) সমাজে হযরত আলী (আঃ)-এর এই দর্শন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। আজকের মানুষ যখন ব্র্যান্ড, স্ট্যাটাস আর যান্ত্রিক সুখের পেছনে অন্ধের মতো ছুটছে, তখন এই ‘বৈরাগ্য নয় বরং অনাসক্তি’র বাণীটি জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তবে সমালোচনামূলকভাবে দেখলে, এই দর্শনের অর্থ এই নয় যে পৃথিবী ত্যাগ করে বনে চলে যেতে হবে। বরং এর প্রকৃত অর্থ হলো—পৃথিবীতে বসবাস করেও হৃদয়ে পৃথিবীকে স্থান না দেওয়া। অর্থাৎ, আপনার হাতে সম্পদ থাকতে পারে, কিন্তু সেই সম্পদ যেন আপনার বিবেকের মালিক না হয়ে বসে। আধুনিক মানসিকতায় এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মানুষের সফলতা রাজকীয় পোশাক বা সুস্বাদু খাবারের তৃপ্তিতে নেই, বরং আছে নিজের নফস বা অহংকে দমনের মধ্যে। হযরত আলী (আঃ)-এর বাণী আমাদের এই রূঢ় সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় যে, অহংকার করার মতো কোনো উপাদানই এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে নেই। যখন আমরা বাহ্যিক চাকচিক্যের মোহ মায়া কাটিয়ে এই জগতের তুচ্ছতা উপলব্ধি করতে শিখব, তখনই আমাদের আত্মিক শুদ্ধি ঘটবে। মোহমুক্তির এই পথই শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার স্রষ্টার প্রকৃত সান্নিধ্য ও চিরস্থায়ী শান্তির ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।

বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে হযরত আলী (আঃ)-এর দর্শনের আলোকবর্তিকা আমাদের জীবনকে কীভাবে বদলে দিতে পারে, তার একটি বিশেষ বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো।

সোশ্যাল মিডিয়া প্রদর্শনবাদ ও আধুনিক ভোগবাদঃ একটি আধ্যাত্মিক পুনর্পাঠ

হযরত আলী (আঃ) যখন বলেছিলেন, পৃথিবীর দামী পোশাক আসলে একটি পোকার পায়খানা আর সুস্বাদু খাবার একটি পতঙ্গের থুথু—তখন তিনি মানুষের ‘অহংকার’ নামক অসুখটির মূলে কুঠার আঘাত করেছিলেন। আজ ২১ শতকের সোশ্যাল মিডিয়া প্রদর্শনবাদ (Social Media Validation) এবং অন্ধ ভোগবাদের (Hyper-consumerism) যুগে এই দর্শনটি আমাদের জন্য এক মহৌষধ হতে পারে।

১। প্রদর্শনবাদের মিথ্যে আভিজাত্য

আজকের দিনে আমরা যা পরিধান করি বা যা খাই, তা উপভোগ করার চেয়ে অন্যকে দেখানোর আগ্রহ আমাদের বেশি। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকে একটি ‘পারফেক্ট’ খাবারের ছবি বা দামী ব্র্যান্ডের পোশাকের প্রদর্শনী মূলত আমাদের অহংকারকেই তৃপ্ত করে। হযরত আলী (আঃ)-এর ভাষায় বললে, আমরা আসলে এক পতঙ্গের লালা আর পোকার বর্জ্য নিয়ে একে অপরের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় মেতেছি। এই অতি-সাধারণ বস্তুকে যখন আমরা অসাধারণ মনে করে গর্ব করি, তখনই আমরা আত্মিক শুদ্ধি থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে সরে যাই।

২। মরীচিকার পেছনে ছুটছে আধুনিক সমাজ

আধুনিক অর্থনীতি আমাদের শেখায় ‘আরও চাই’। আমাদের কাছে যা আছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই, কারণ বিজ্ঞাপন আমাদের বলছে অমুক ব্র্যান্ডের গাড়ি বা ফোন ছাড়া জীবন অপূর্ণ। এই যে অসীম অভাববোধ, এটাই হলো সেই ‘দুনিয়ার মোহ’। হযরত আলী (আঃ) শিখিয়েছেন এই পৃথিবীকে ‘তুচ্ছ’ হিসেবে দেখতে। যখন আমরা কোনো বস্তুকে তুচ্ছ মনে করতে শিখব, তখন সেই বস্তুটি আর আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আধুনিক মানুষের মানসিক অস্থিরতা বা ডিপ্রেশনের একটি বড় কারণ হলো এই বস্তুবাদী মোহভঙ্গ হওয়া।

৩। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনঃ সমাধান যেখানে

আমরা কি তাহলে আধুনিক সভ্যতা ছেড়ে দেব? মোটেও না। হযরত আলী (আঃ)-এর দর্শনের সার্থকতা হলো ‘দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন’

  • ব্যবহার বনাম আসক্তিঃ আপনি দামী পোশাক পরুন, কিন্তু জানুন যে এটি আপনার শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়। এটি স্রেফ একটি প্রয়োজনীয় বস্তু।
  • আত্মিক গভীরতাঃ যখন আপনার আইডেনটিটি বা পরিচয় দামী ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করবে না, তখনই আপনি মানসিকভাবে স্বাধীন হতে পারবেন।
  • অহংকার বর্জনঃ দামী রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে সেটি প্রদর্শন করার আগে যদি মনে পড়ে এটি কেবলই প্রকৃতির একটি সাধারণ চক্র, তবে মানুষের মধ্যে বিনয় আসবে।

৪। বর্তমান সময়ের নিরিখে প্রভাব

আজকের পৃথিবীতে সম্পদের অসম বণ্টন এবং শ্রেণি বৈষম্যের মূলে রয়েছে মানুষের এই দম্ভ। একজন মানুষের দামী পোশাকের মোহ যখন তার মানবিক বোধের চেয়ে বড় হয়ে যায়, তখনই সমাজে অবিচার জন্ম নেয়। যদি সমাজ সম্মিলিতভাবে এই ‘দুনিয়ার মোহ’ কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে সম্পদের মোহ নয় বরং স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য মানুষের সেবা করার মানসিকতা তৈরি হবে।

হযরত আলী (আঃ)-এর দর্শন আমাদের আদিম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। জীবনের চাকচিক্য আসলে একটি পর্দা মাত্র। সেই পর্দাটি সরাতে পারলেই আমরা দেখতে পাব যে, প্রকৃত সফলতা বস্তুগত অর্জনে নেই, বরং আছে আত্মিক নির্মোহতায়। যখন আমরা বাহ্যিক জৌলুসের চেয়ে নিজের ভেতরের মনুষ্যত্ব আর আধ্যাত্মিকতাকে বড় করে দেখব, তখনই কেবল আমরা স্রষ্টার সান্নিধ্য এবং প্রকৃত মানসিক প্রশান্তি অর্জন করতে পারব।

আধ্যাত্মিক দর্শনের এই গভীর সত্যগুলোকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়। হযরত আলী (আঃ)-এর শিক্ষা অনুযায়ী একটি ‘মোহ-মায়ামুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ’ জীবনধারা গড়ে তোলার জন্য আমি নিচের ব্যবহারিক গাইডলাইনটি তৈরি করেছিঃ

মোহমুক্ত জীবনধারাঃ একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা (Lifestyle Guide)

এই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—পৃথিবীতে থেকেও পৃথিবীর দাস না হওয়া। অর্থাৎ, আপনার হাতে সম্পদ থাকবে, কিন্তু আপনার হৃদয়ে থাকবে শুধু মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা সেখানে অন্য কারও স্থান থাকবে না প্রবেশ করবে না।

১। ‘কন্টেন্টমেন্ট’ বা তুষ্টির অনুশীলন (The 24-Hour Rule)

আমরা অনেক সময় ঝোঁকের মাথায় অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলি যা কেবল আমাদের সামাজিক মর্যাদা বা অহংকার বৃদ্ধি করে।

  • অনুশীলনঃ কোনো দামী বা শৌখিন বস্তু কেনার আগে নিজেকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন। এই সময়ে ভাবুন, এই বস্তুটি ছাড়া আপনার জীবন কি স্থবির হয়ে যাবে? হযরত আলী (আঃ)-এর সেই ‘পোকার বর্জ্য’ বা ‘পতঙ্গের থুথু’র উপমাটি মনে করুন। দেখবেন, বস্তুর প্রতি আকর্ষণ মুহূর্তেই কমে গেছে।

২। ডিজিটাল ডিটক্স ও প্রদর্শনবাদ বর্জন

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের খাবার বা পোশাকের ছবি দেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—”আমি কি এটি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের জন্য দিচ্ছি, নাকি অন্যকে নিচু দেখানোর জন্য বা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার জন্য?”

  • অনুশীলনঃ সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। নিজের অর্জনগুলোকে গোপন রাখতে শিখুন; কারণ যা গোপন, তা কেবল আপনার এবং আপনার স্রষ্টার। এটি আপনার ভেতর থেকে ‘অহংকার’ দূর করে ‘বিনয়’ জন্ম দেবে।

৩। খাবারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো

আমরা সুস্বাদু খাবারের পেছনে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করি। হযরত আলী (আঃ) আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন এর নগণ্য উৎসের কথা।

  • অনুশীলনঃ খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ বা দামের চেয়ে তার পুষ্টিগুণ এবং এটি যে স্রষ্টার একটি নেয়ামত—সেদিকে মনোনিবেশ করুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন খুব সাধারণ খাবার (যেমন কেবল রুটি বা ডাল) খাওয়ার অভ্যাস করুন, যাতে জিহ্বার দাসত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বিঃ দ্রঃ খাবার বিষয়ে আধ্যাতিক একটি প্রবন্ধ পাঠ করার জন্য এইখানে ক্লিক করুন।

৪। পোশাক ও বাহ্যিক অবয়ব

মানুষের দামী পোশাক প্রায়ই তাকে দাম্ভিক করে তোলে।

  • অনুশীলনঃ পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘মার্জিত হওয়া’ এবং ‘দামী হওয়া’র মধ্যে পার্থক্য বুঝুন। এমন পোশাক পরুন যা পরিপাটি কিন্তু আপনার মনে এই বোধ তৈরি করে না যে আপনি অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। মনে রাখবেন, রেশমের আভিজাত্য আসলে একটি পোকার ত্যাগের ফল মাত্র—আপনার নিজের কৃতিত্ব নয়।

৫। প্রতিদিনের ‘মুহাসাবা’ বা আত্ম-বিশ্লেষণ

দিনের শেষে ১০ মিনিট একা বসুন। সারা দিনের কর্মকাণ্ড বিচার করুন।

  • অনুশীলনঃ নিজেকে প্রশ্ন করুন—আজ কি আমি এমন কিছু করেছি যা কেবল দুনিয়ার মোহে পড়ে করা? নাকি আমার প্রতিটি কাজ স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য ছিল? হযরত আলী (আঃ) বলতেন, “সেই ব্যক্তি ধ্বংস হয়ে গেল, যার আজকের দিনটি গতকালের চেয়ে উত্তম হলো না।”

৬। সেবার মাধ্যমে মোহমুক্তি (The Act of Giving)

মোহ কাটানোর সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো নিজের প্রিয় বস্তু অন্যকে দিয়ে দেওয়া।

  • অনুশীলনঃ যখনই কোনো জিনিসের প্রতি খুব বেশি মায়া অনুভব করবেন, সেটি কোনো অভাবী মানুষকে দান করে দিন। এটি আপনার মন থেকে বস্তুর মালিকানাবোধ কমিয়ে দেবে এবং স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেবে।

এই জীবনধারা অনুসরণ করার অর্থ জীবনকে উপভোগ না করা নয়, বরং জীবনকে ‘সঠিক চশমা’ দিয়ে দেখা। যখন পৃথিবী আপনার চোখে ‘দুম্বার নাকের সর্দি’র মতো তুচ্ছ হয়ে যাবে, তখনই আপনি প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করবেন। তখন হারানোতে আপনার দুঃখ থাকবে না এবং প্রাপ্তিতে থাকবে না কোনো দম্ভ।

পরিশেষে বলা যায়, নশ্বরতার এই মায়াজাল কোনো অভিশাপ নয়, বরং এটি মানুষের আধ্যাত্মিক উত্তরণের একটি সোপান মাত্র। হযরত আলী (আঃ)-এর সেই অমর উপমাগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আমরা যে পার্থিব জৌলুসের পেছনে জীবন ক্ষয় করছি, তার মূলে রয়েছে নিছক শূন্যতা। প্রকৃত মুক্তি পৃথিবীর ভোগবিলাসে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ায় নেই, বরং রয়েছে সেই ভোগবিলাসের মোহ থেকে নিজের আত্মাকে বিমুক্ত করায়। যখন কোনো মানুষ জগতের এই তুচ্ছতাকে চিনে নিতে পারে, তখন তার হৃদয়ে জাগে আত্মিক প্রশান্তি এবং সে প্রকৃত অর্থেই সফলকাম হয়। এই নশ্বরতাকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শেখাই হলো অবিনশ্বর সেই মহান সত্বা রাব্বুল আলামিনের চিরস্থায়ী সান্নিধ্য অর্জনের প্রথম এবং প্রধান শর্ত। মোহমুক্তির এই পথ ধরেই মানুষ তার নশ্বর অস্তিত্ব থেকে অবিনশ্বর আধ্যাত্মিকতার দিকে ধাবিত হয়—যেখানেই লুকিয়ে আছে জীবনের চরম ও পরম সার্থকতা।

মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিয়

মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিয় একজন পেশাদার মানব সম্পদ কর্মকর্তা ও লেখক। তিনি ইসলামের ইতিহাস ও মানবতার আর্তনাদ নিয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর সৃজনশীল সত্তা সাহিত্য ও ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে জীবনবোধের এক গভীর দর্শন ফুটিয়ে তোলে।

এই সাইটে প্রকাশিত সকল বিষয়বস্তু লেখকের নিজস্ব মেধাসম্পদ। লেখকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই লেখার কোনো অংশ অন্য কোনো মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ বা কপি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কপিরাইট আইনের পরিপন্থী।

মতামত দিন-

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ

    Follow us

    Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.