সাত সমুদ্র তেরো নদী পারের কোনো এক আলোকিত প্রান্তর থেকে,
আমি এসেছিলাম— বুকভরা এক যান্ত্রিক প্রাণস্পন্দন নিয়ে।
জার্মান রোদে আমার অবয়ব পুড়েছে, জাপানি নিপুণতায় গড়া আমার অস্থি,
কোথাও কোরীয় বা ইতালীয় আভিজাত্যে লেগে ছিল সেবার মহান প্রশান্তি।
বিশাল বাজেটের ডামাডোলে, টেন্ডারের গগনবিদারী উল্লাসে—
আমি শৌখিন কার্গোর পাল তুলে ভেসেছিলাম এক অনিশ্চিত আশ্বাসে।
আমি এসেছিলাম সুস্থতার গান গাইতে, এই মাটির মানুষের তরে,
কিন্তু পৌঁছে দেখি, আমার জন্য কোনো এক অভিশপ্ত মায়া অপেক্ষা করে।
যেখানে কান পাতলে কেবল হাহাকার আর আর্তনাদ শোনা যায়,
যেখানে রুগ্ন বাতাস দেয়ালঘেরা করিডোরে বিফল হয়ে লুটোপুটি খায়—
আমি কি করে ভালো থাকি সেই মৃতপ্রায় আর্তনাদের পুরীতে?
আমি তো এসেছি এক এমন দেশে, যেখানে সুস্থতা বিলাসিতা মাত্র এ ধরণীতে।
আমার গায়ে অদৃশ্য কোনো কালিমার আস্তরণ পড়ে যায় নিমিষেই,
যন্ত্র আমি, অথচ অকেজো হওয়ার যন্ত্রণা আমাকেই কুড়ে কুড়ে খায় ঠিকই।
হয়তো কোনো অদৃশ্য তস্কর আমার প্রতিটি কলকব্জার প্রাণ শুষে নেয়,
হয়তো কোনো অবহেলার বিষবাষ্প আমার যান্ত্রিক হৃদপিণ্ড থামিয়ে দেয়।
মানুষ আসে এখানে জীবন ফিরে পেতে, আর আমি আসি জীবন বিসর্জনে,
আসলে ভালো থাকার সৌভাগ্য কি জোটে এই অবহেলার রণাঙ্গনে?
আসার ক্লান্তি ছিল দীর্ঘ, কিন্তু অবহেলার প্রহর তার চেয়েও প্রখর,
আমি এক রাজকীয় অতিথি, আজ হাসপাতালের এক অন্ধকার কোণের নগণ্য পাথর।
পঙ্গুত্ব বরণ করে নিয়েছি আমি— নিথর, স্তব্ধ আর ধুলোবালির আড়ালে,
আমি এক অকালপ্রয়াত স্বপ্ন, যা কোনোদিনই পা রাখেনি সাফল্যের সকালে।
আমি সরকারি হাসপাতালের সেই যন্ত্র, যে জন্মলগ্নেই মৃত—
এক বিশাল বাজেটের অন্তরালে, আমি এক করুণ ইতিহাসের ক্ষত।





মতামত দিন-