shofiq.com

ফিলিস্তিনের রক্তস্নাত প্রান্তর—ইসরাইলি আগ্রাসন ও আমেরিকার নিষ্ঠুর সহায়ত

ফিলিস্তিনের আকাশে আজও ধোঁয়া উড়ছে, রক্ত মাখা রাস্তায় ছড়িয়ে আছে নিরপরাধ মানুষের নিথর দেহ। ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন ও মার্কিন সমর্থনের বর্বর নীতির কারণে ফিলিস্তিন এক ভয়ংকর মানবিক বিপর্যয়ের মুখে। প্রতিদিন শত শত নারী-শিশু বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, হাসপাতালগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, খাদ্য ও পানির পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। এই নিপীড়ন শুধুই এক জাতির বিরুদ্ধে নয়, এটি পুরো মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়ংকর অপরাধ।

 

ইসরাইলি দখলদারিত্ব: ইতিহাসের নির্মম অধ্যায়

ইসরাইলের আগ্রাসন নতুন কিছু নয়। ১৯৪৮ সালে প্যালেস্টাইনের মূল বাসিন্দাদের বিতাড়িত করে অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের উপর নেমে এসেছে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ। ১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর ও গাজার দখল, বসতি সম্প্রসারণ, ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলা—সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনের জমি দিনে দিনে সংকুচিত হয়েছে, আর ইসরাইলের আগ্রাসন বেড়েছে।

বিশ্বব্যাপী ‘মানবাধিকার’-এর বুলি আওড়ানো দেশগুলো ইসরাইলের এই দখলদারিত্ব ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় কিছু রাষ্ট্র প্রকাশ্য ও গোপনে ইসরাইলকে অস্ত্র, অর্থ ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে গেছে।

 

আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি: মানবতার নামে বর্বরতার সমর্থন

আমেরিকা বিশ্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বঘোষিত অভিভাবক, অথচ তারা ইসরাইলের বর্বরতাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছে। তারা নিয়মিতভাবে ইসরাইলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করে, যাতে ফিলিস্তিনিদের আরও ভালোভাবে দমন করা যায়।

জাতিসংঘে যখনই ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কোনো প্রস্তাব আসে, তখনই আমেরিকা ভেটো দেয়। তারা গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে ইসরাইলের বর্বরতাকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে প্রচার করে, অথচ ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেয়।

 

গাজা: এক ভয়ংকর কারাগার

গাজা একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বন্দি অবস্থায় বাস করছে। ইসরাইল ২০০৭ সাল থেকেই গাজার ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করেছে, ফলে খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যখনই ফিলিস্তিনিরা ন্যূনতম প্রতিরোধের চেষ্টা করে, তখনই ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।

বর্তমানে গাজায় কী হচ্ছে?

হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে: আহতদের চিকিৎসার সুযোগ নেই।

বাচ্চারা না খেয়ে মরছে: খাদ্য ও পানির ঘাটতি চরম পর্যায়ে।

শরণার্থীদের ওপরও হামলা চলছে: জাতিসংঘ পরিচালিত শরণার্থী শিবিরেও বোমাবর্ষণ হচ্ছে।

এটি শুধু একটি যুদ্ধ নয়, এটি পরিকল্পিত গণহত্যা।

 

বিশ্বের ভূমিকা: নীরবতা কি সমর্থনের শামিল নয়?

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশ নিরব ভূমিকা পালন করছে। পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, যেন ইসরাইলের বর্বরতা ঢেকে রাখা যায়।

তবে সাধারণ মানুষ সোচ্চার হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে মানুষ সত্য প্রকাশ করছে, বয়কট আন্দোলন শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু এটুকুই কি যথেষ্ট?

 

আমরা কী করতে পারি?

১. সত্য প্রচার করো: মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনের বাস্তবতা তুলে ধরো। ২. অর্থনৈতিক বয়কট: ইসরাইলি পণ্য ও তাদের সমর্থনকারী কোম্পানিগুলো বয়কট করো। ৩. প্রতিবাদ করো: সারা বিশ্বে বিক্ষোভ বাড়লে রাজনৈতিক নেতাদেরও চাপ বাড়বে। 4. ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াও: মানবিক সহায়তা ও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখো।

ফিলিস্তিনিদের এই সংগ্রাম শুধু তাদের স্বাধীনতার জন্য নয়, এটি মানবতার জন্য এক পরীক্ষা। আজ যদি আমরা নিরব থাকি, তাহলে কাল আমাদের সাথেও এমনটি ঘটতে পারে।

ফিলিস্তিন বিজয়ী হবেই!

“জালিমদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত ন্যায়বিচার।”

মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রিয়

এই প্রকাশনাটির সর্বস্বত্ত লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। এই প্রকাশনার আংশিক বা সম্পুণাংশ অন্য যেকোন মিডিয়াতে লেখকের নামে ছাড়া অন্য কারও নামে প্রকাশ করা কপিরাইট আইন এ দন্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গন্য হবে।...

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক মন্তব্য সমুহ

    Recent Comments